গ্লোবালাইজেশনের ফলে পৃথিবী এখন প্রায় হাতের মুঠোয়। কিছুটা সেই সুবাদেই বিভিন্ন প্রান্তের অনেক চলচিত্র গলর্ধকরণ করে ফেলেছি ইতিমধ্যেই। শুরুটা হয়েছিল ২০০০ থেকে তখন সবে ভিসিআর-এর জামানা শেষ হয়ে সিডি-ডিভিডির দাপট। হলিউডের চোখ ধাঁধানো স্পেশাল এফেক্টস আর অ্যাকশন ছায়াছবির রমরমা বাজার। টলিউড ও বলিউডের একঘেয়েমি কাটিয়ে মফরসলে তখন এদের জুড়ি মেলা ভার। সেই সুবাদেই খানিকটা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বিধস্ত দেশগুলির সাথে চাক্ষুষ পরিচয়। তখন মনে হত, এও কি সম্ভব? ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে শহরের পর শহর, দেশের পর দেশগুলোকে এভাবে অবলীলায় ইঁট-পাথরের কঙ্কাল করে দেওয়া যায়? জীবন কি তবে শুধুই মূল্যহীন!
সময়ের সাথে চিন্তাধারা বদলায়, প্রয়োজনও বদলায়। একটা সময় এল যখন সায়েন্স-ফিকশনের রমরমা বাজার। হরেক রকমের পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে মহাকাশ গবেষণা, পুরাতত্ব, অতিপ্রাকৃত থেকে এলিয়ানে ভরে গেছে পৃথিবীর সর্বত্র। এই মতো অবস্থায় সুযোগ আসে একটি চলচিত্র দেখার, নাম – “Resident Evil”। আবারও অবাক হয়েছিলাম, সত্যই কি এমনও হতে পারে কোনদিন? বিজ্ঞানের অপব্যবহার করে, কিছু অর্থলিপ্সু স্বার্থান্বেষী দুর্বুদ্ধিদের শিকার হতে হবে পৃথিবীকে। মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের জন্য ভুগতে হবে সমগ্র জীব জগৎকে? ধ্বংসের পথে কি এগিয়ে চলব আমরা? জীবন কি তবে আবারও মূল্যহীন!
২০২০, অস্থির একটা সময়কালের মধ্যেদিয়ে চলেছে সমগ্র ভূগোলকের মানুষ। মানব জাতি আজ অসহায় ও বিপন্ন। ঠিক যেন “রেসিডেন্ট ইভিল” -এর বাস্তব প্রতিফলন। যেখানে প্রযুক্তিগত ভাবে জিনের পরিবর্তন ঘটিয়ে টি-ভাইরাসের সৃষ্টি করা হয়েছিল। বাস্তবে যা নোভেল-করোনা।
উৎপত্তিস্থল অজানা হলেও প্রথম বিষক্রিয়া শুরু হয় চীনের উহান প্রদেশে। নিমিষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে লক্ষাধিক মানুষের মধ্যে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বলি হয়ে যান হাজার চারেক মানুষ (সরকারি তথ্য, বাস্তবে আরও বেশি হওয়ার সম্ভবনা আছে)। চীনা খাবার বুঝি হজম হচ্ছিলনা ভাইরাসটির, ইচ্ছে হল প্রথিবী ভ্রমণের। পূর্ব এশিয়া ভ্ৰমণ সেরে পৌঁছে যায় “রাজাদের দেশ” ইউরোপে। চরম উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে তান্ডব লীলা চালু করে সে। ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড সহ সমগ্র ইউরোপেকে কার্যত শ্মশান বানিয়ে, এবার অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা ও আমেরিকার দিকে মুখ ফেরায় সেটি। কমবেশি বারো লক্ষ আক্রান্তের ওপর করাঘাত হেনে প্রায় হাজার ষাটেক মানুষকে পরলোকের দরজা অবধি পৌঁছে দিয়েছে এপর্যন্ত। দিন দিন আরও শক্তিশালী বানিয়ে নিজেকে ভালো ছাত্রের পরিচয় দিতে ব্যস্ত সে। অথচ এর আয়ু তর্ক-বিশেষে সর্বাধিক মাত্র ৩ দিন (বিশেষ ক্ষেত্রে) এবং বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন মানুষ। তবুও কি সচেতন হব না আমরা??
পৃথিবী ভ্রমণে বেরিয়ে ভারতবর্ষ বাদ যাবে এটা হয় না? তাই ষোল কলা পূর্ন করতে সে এসে উপস্থিত আমাদের দোর গোড়ায়। সর্বধর্মের মিলনস্থল ভারতবর্ষ কাউকেই ফেরায় না। সেই মুঘল যুগের আগে থেকে ব্রিটিশরাজ অবধি আমাদের “অতিথি দেব ভবঃ”। তাই কোরোনাকে আপন করে নিতে কসুর করেনি ভারতবর্ষ। সব দেশের তাবড় ব্যাটসম্যানরা আউট হয়ে গেলেও, বাঙালী সর্বদাই এক কাঠি ওপরে। কারণ আমরা ল্যাদখোর তর্কবাজ বাঙালী। ভাগাড়ের মাংস সবাড় করে হজম করা বাঙালী, যারা ম্যালেরিয়া, চিকন-গুনিয়া, বার্ড-ফ্লু, সোয়াইন-ফ্লু, ক্যানসার, এমন কি ডেঙ্গু নিয়ে খেলাধুলো করি তাদের আবার নভেল করোনাতে ভয় কিসের? তাই কিস্যু হবে না আমাদের।
“সরকারের নীতি, উপদেশ? সে আবার কি? কেনইবা মানব আমরা? আমাদের গণতন্ত্রের অধিকার আছে, আমাদের ব্যক্তিস্বাধীনতা আছে, আমাদের অনেক “হাত” আছে। কোন কিছুই আমাদের কেশাগ্রও স্পর্শ করতে পারবে না। সমস্ত আইনের ওপরে আমরা। আপনাকে বাড়িতে থাকতে বলেছে চুপ করে বাড়িতে থাকুন; বেশি জ্ঞান দিতে আসবেন না আমাদের।”
তাই কি? সময় আছে এখনও;
সাবধান হোন!! কারণ –
শেষের সেদিন, সত্যিই ভয়ঙ্কর!
(ক্রমশ)