“আবারও যদি বেঁচে যাও দ্বিতীয় ঢেউয়ের ঝাপ্টা সয়ে,
মনে রেখো, সবার ওপরে ভোট সত্য, তাহার ওপরে নাই…”
দেখতে দেখতে বছর গড়িয়ে ফিরে এলাম শুরুর সেই জায়গাতেই। প্রায় একবৎসর বদলে দিয়েছে অনেককিছুই। লিখতে বসা হয়ে ওঠেনি অনেকদিন; আজ প্রায় বাধ্যহয়েই ফিরলাম তাই স্মৃতিচারণে। ২০২০ যেন অদ্ভুত এক সময়কাল, কথায় কথায় আগের বছরের উল্লেখ করলেই, এসে পড়ে ঊনিশ। ২০২০ যেন ব্রাত্য সবার কাছেই; বা ইচ্ছে করেই সকলে এড়িয়ে যেতে চান অনাহুত এই বছরটিকে। আগের বছর এমন সময় প্রমোদ গুনছিল সকলে। অথচ এবছর তেমন কেউ আর পাত্তাই দিতে রাজি নয় তাকে। হ্যাঁ, বর্ষ পূর্তি হল শ্রীমান করোনার প্রকোপের।
বছরখানেক বাড়িমুখো হয়নি আমরাও। স্বেচ্ছাবন্দি থেকেছি এই কয়েক মাস। মাটির টানে তাই ছুটেছিলাম বৎসরান্তে। বন্দিদশা কাটিয়ে বাইরে বেরিয়ে ভালোলাগার চেয়ে অবাকই হয়েছিলাম অনেক বেশি। লকডাউন উঠে গেছে মানেই করোনাকে বাড়ি ছাড়া, পাড়া ছাড়া, রাজ্য ছাড়া মায় দেশ ছাড়া করা গেছে বলেই মেনে নিয়েছে অনেকে। কেউ কেউ তো আবার থালা-বাটি, ঝাঁঝর-কাঁসর বাজিয়েই করোনাকে দেশ ছাড়া করেছেন বলেই বিশ্বাস নিয়ে আস্বস্ত আছেন। “দ্বিতীয় ঢেউ” কথাটিযে কেবল বাজার গরম করা শব্দ, সেটি যেন সকলেই মজ্জাগত করে নিয়েছেন। করোনা? ও আর এমন কি..? তাকে পাশবালিশ বানিয়ে খুশী আপামর বাঙালি। যদিও প্রাণের মায়ায় কেউ কেউ ভয় পেয়েছে চুল কাটতে, কেউ আবার দাড়ি!
পরিসংখ্যান অনুযায়ী এখনও অবধি প্রায় ৩০ লক্ষ প্রাণকে হারিয়েছি আমরা এবং ‘খুদে মাস্তান’ -টির কবলে পড়েছেন প্রায় ১৩ কোটি মানুষ। বাস্তবে যদিও এই সংখ্যা অন্তত দ্বিগুনেরও বেশি। সুখবর একটাই যে, তাড়াহুড়ো করে হলেও প্রতিশোধক আবিষ্কৃত হয়েছে এবং তার প্রয়োগও শুরু করা হয়েছে মাসকয়েক যাবৎ। এতো কিছুর মাঝেও চিন্তা বাড়াচ্ছে “দ্বিতীয় ঢেউ”, যদিও তা নিয়ে ধোঁয়াশাও তৈরী হয়েছে যথেষ্ট। কোভিশিল্ড বা কোভাক্সিন যে কতটা কার্যকরী তা বলা সাধারণের কম্মো নয়। এযেনো দিল্লির লাড্ডু, খেলেও পস্তাতে হয়, আবার না খেলেও। ভ্যাকসিন নিয়েও অনেকেই দ্বিতীয় বার সংক্রমিত হচ্ছেন এমন আকছার ঘটে চলেছে। “মন কি বাত” শুনিয়ে অনেককে ভুলিয়ে রাখা গেলেও এদের যে বাগে আনা যাবে না সেটা এখন বেশ পরিষ্কার। তাই এই বহুরূপী অনাহুত অতিথিকে তাড়ানো দুরঅস্ত বাগে আনতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে ইস্পাত কঠিন সিংহ পুরুষকেও।
প্রথম দফার অপরীক্ষিত দেশব্যাপী লকডাউনের প্রভাব কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো অর্থনীতির কোমর আবারও ভাঙতে মারণাস্ত্র তৈরীই আছে – দ্বিতীয় দফার লকডাউন। যদিও কিছু অঙ্গরাজ্য তাদের ক্ষমতা বলে নিজ নিজ পদ্ধতিতে চালু করে দিয়েছে দ্বিতীয় দফার প্রয়োগ। দেশব্যাপী চালু করার পরিকল্পনা থাকলেও সেটি করা এখনই সম্ভব নয়, কারণ “ভোট বড়ো বালাই”। এক নয়, দুই নয়, একেবারে একসাথে পাঁচ রাজ্যের ভোট। তাদের মধ্যে যদি আবার বঙ্গের মতো সৃষ্টি-কৃষ্টিতে ভরপুর একটি অঙ্গরাজ্য হয়, তাহলে তো আর কথাই নেই। সদলবলে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে প্রচারে, তুলে ধরতে হবে “আচ্ছে দিনের গল্প”, বোঝাতে হবে আমরাই কেন সঠিক বিকল্প। মধ্যপ্রদেশের ভোটে জন্যে পক্ষকাল পিছোতে পারলে এখন নয় কেনো? অতিমারী তো কি, আগে ভোট পরে বাকি সব।
স্মৃতিশক্তি এতোটা দুর্বল হলে ব্রাম্হী শাকের ওপর ভরসা করতেই হবে আমাদের। সবেতো এক বছর পেরিয়েছে, এখুনি অপরিকল্পিত লক-ডাউনের সেই দিনগুলো ভুললে চলবে? ভুলে গেলেন, তারও পরবর্তী সময়ে আপনার-আমার পাশে কারা ছিল আর গালভরা প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটাভিক্ষে করতে এখন কতো “পরিযায়ী” -দের উদ্ভব ঘটেছ। একটু ভাববেননা কর্মহীন মানুষগুলোর জীবন কিভাবে কেটেছে। পেটের টানে যাঁদের দূর-দেশে পাড়ি দিতে হয়েছিল, ফেরার সময় তাদের পরিনাম কি হয়েছিল? আবার লকডাউনের পরিস্থিতি এলে কি হতে পারে।
সময় আছে এখনও; একটু সচেতন হোন!!
(ক্রমশ)