শহরের সীমানা পেরিয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই সমভূমিও বিদায় জানাল আমাদের। রাস্তার ডানদিকে ঢালু পাহাড়ের কোলে বসত বাড়িগুলি কাঠ ও কংক্রিটের তৈরী। প্রায় সব বাড়ির টিনের ছাউনিই মরচে পড়ে বাদামি রঙ ধারণ করেছে। বাড়িগুলির সামনের বাগানে নাম না জানা পাহাড়ি ফুলের মেলা। একতলা ছোট ছোট বাড়ি গুলির সামনে ও পিছনে কিছু সুপুরি গাছ দাঁড়িয়ে। রাস্তার বামদিকে খাদ নেমে গিয়েছে অনেকটা। প্রথমে সুপুরি ও বাঁশ গাছে ভরা থাকলেও চড়াই ওঠার সাথে সাথে তাদের ঘনত্ব কমতে থাকল। গভীর চওড়া খাদের শেষে চা বাগানে কাজ করছেন কিছুজন। তারও পিছনের ভূমি ঢালু হয়ে উঠে গিয়েছে অনেক উঁচুতে। চোখের সামনে গাঢ় কুয়াশায় ঢাকা পাহাড়ের চূড়াগুলির অস্পষ্ট অবয়ব। দৃশ্যপট যেন কোন শিল্পীর ক্যানভাস। মন্ত্রমুগ্ধের মতো সে দৃশ্য অনুভব করতে করতে চলেছি।
চড়াই ওঠার সাথে সাথেই ঠান্ডা তার দাঁত ফোটাতে শুরু করল আমাদের। রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া দেখে লাটাগুড়ি থেকে বেরোলেও পাহাড়ের আবহাওয়া যেকোনো মুহূর্তেই খারাপ হতে পারে তার সম্বন্ধে অবগত ছিলাম সকলে। রৌদ্রের ছিটেফোঁটাও এখন আর নেই। দূরের পাহাড়ের অবয়বগুলি তখন সম্পূর্ণরূপে ঢেকে গিয়েছে ধূসর কুয়াশায়। একপাল ঠান্ডা বাতাস যেন তাদের নিজেদের কব্জায় নিয়ে ফেলেছে গোটা এক পাহাড়কে। প্রায় ৩০০০ ফুট উচ্চতায় উঠে এসেছি এখন। পরিবেশও সেই উচ্চতার কথা আমাদের বুঝিয়ে দিচ্ছিল যেন। গ্রামগুলির ঘনত্ব এখন আরও পাতলা হয়ে এসেছে। পুরোটাই কাঁচা রাস্তার ওপর দিয়ে চলেছি তখন, পিচ প্রায় নেই বললেই চলে। রাস্তার ধারে তখন কমলা লেবুর গাছ ও মাঝে মাঝে ছোট ছোট বাঁশের ঝোপ।