হঠাৎ জীপ থেমে গেল। অনেক চেষ্টার পরও চলতে পারছে না সে। ভীষণ বিষ্ময়ে তাকিয়ে থাকলাম ড্রাইভারের দিকে। জঙ্গল যেন রসিকতায় মেতে উঠেছে আমাদের সাথে। একলাফে গাইড নামল গাড়ি থেকে। ধাক্কা দিতে থাকল পিছনে গিয়ে। জীপের চাকা বসে গিয়েছে নরম মাটিতে। রাত্রে বোধহয় বৃষ্টি হয়েছে এদিকে। কিছুক্ষণের চেষ্টায় গাড়ি আবার চলতে লাগল। নিশ্চিন্ত হলাম আমরা। কিছুটা দূর এগোতে একটি হাড়জিরে কালভার্ট। সেখান থেকে আরও একটি জীপ পিছু নিল আমাদের।
লোকালয় পার করে জীপ আবার প্রবেশ করল অরণ্যভূমিতে। জঙ্গলের এই অংশ চিরগোধূলিময়। প্রকান্ড প্রকান্ড মহীরুহগুলি তাদের বিশাল ডাল পালা মেলে দিয়ে আটকে রেখেছে সূর্যের ঔজ্জ্বল্য। তাদের কাল-বাদামি কাণ্ডে হরেক রঙের শ্যাওলা ও পরগাছার বাস। অরণ্যের নিস্তব্ধতাকে খান খান করছিল তীক্ষ্ন ঝিঁঝিঁর ডাক। কোনো পশুপাখির দেখা নেই। গাইড জানাল এখানেই নাকি কাল বিকেলে একপাল হাতি দেখেছিল সে। আজ তারা বনের গভীরে চলে গিয়েছে বোধহয়। এখানে জঙ্গল এত ঘন যে দৃষ্টি আটকে যাচ্ছে সামনেই। ঝোপঝাড়ের পিছনে যে কি আছে তা জানা যাচ্ছে না। আমি গাছের ডালের দিকে নজর রাখছিলাম। লেপার্ড তো ওখানেই ঘাপটি মেরে থাকে তাদের শিকারের জন্য, এই বুঝি ঘাড়ে লাফ দেয়।