ভুটান পর্বত থেকে নেওড়া ভ্যালির গহন অরণ্যের ভেতর দিয়ে এঁকে-বেঁকে নেমে এসেছে মূর্তির স্বচ্ছ ধারা। ছোট-বড় জনপদ ও চা বাগান ঘেরা ঘন জঙ্গলের ভেতর দিয়ে বয়ে চলা একচিলতে নদীটিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অনেক স্পটের মধ্যে এটি অন্যতম। গরুমারা ন্যাশনাল পার্ক ও চাপরামারি ফরেস্টকে চরিত্রগত এবং পরিসীমাগত ভাগে ভাগ করে রেখেছে মূর্তি। ছোট বড় নুড়ি-পাথরের ফাঁক গলে কুলকুল শব্দ করে নিরলস বয়ে চলেছে স্বচ্ছ জলের ধারা। তার ছোঁয়া পেতে সাদা বালি পায়ে মেখে এগিয়ে যেতে হয় অনেকখানি। হাঁটুসমান সেই জলরাশি পেরিয়ে আরও কিছুটা এগোলে নদী শেষ হয়ে এসে পড়ে ঘন জঙ্গলে। যেখানে নিরলসভাবে ডেকে চলেছে ঝিঁঝিঁ; আর মাঝে মাঝেই গলা সাধছে ময়ূর-ময়ূরীর দল। শান্ত, স্নিগ্ধ এই জায়গায়, প্রকৃতির আলিঙ্গণে অনায়াসেই কাটিয়ে দেওয়া যায় দু-একটা দিন। জোৎস্নারাতে, রিসর্টের বারান্দা থেকে, বন্য পশুদের জল খাওয়ার দৃশ্য অতি রোমাঞ্চকর। ভোরের ঘুম চোখে, গরম চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে কুয়াশামোড়া জঙ্গলের দৃশ্য অক্ষয় হয়ে থাকবে চিরকাল।