অন্ধকারটা জমাট বেঁধে থমকে দাঁড়িয়ে আছে বাইরে। কৃষ্ণপক্ষের ক্ষয়ে যাওয়া চাঁদের রুপোলি আলো যেন আঁধারকে উদ্বুদ্ধ করেছে আরও ঘন হতে। হঠাৎ ঝমঝম শব্দ করে আবারও কেঁপে উঠল টিনের চালা দেওয়া কাঠের বাংলো বাড়িটি। আর তার সাথেই বেড়ে গেল হু হু শব্দটাও। আবারও ছমছম করে উঠল গাটা। ওভারকোটের পকেটে হাত গলিয়ে ফের চোখ লাগলাম জানালায়। আঁধার কিছুটা ফিকে লাগছে এখন।
পূব-দিগন্তের প্রথম আলোর আভায় এক চিলতে পথ দাঁড়িয়ে রহস্য-ঘন হয়ে। সুঁচের মতো বিষ দাঁত ফোটাচ্ছে তখনও দমকা বাতাস। আধো-অন্ধকারে দিকবিদিক জ্ঞান-শূন্য হয়ে চলেছি অদূরের টিলাটির দিকে। বাংলোর সীমানা পেরিয়ে একটু এগিয়েছি। ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের টোকায় খেয়াল হল, যেন একা নই আমি। পথের থেকে মুখ তুলে তাকালাম অন্ধকারের ভেতর। অদূরেই দেখা মিলল তাদের। অস্পষ্ট দুটি ছায়ামূর্তি! কিছুটা তফাতে দাঁড়িয়ে এদিকেই দেখছে যেন। কি করি এবার? এতো ভোরে সবাই অঘোরে ঘুমোচ্ছে এখন। একা বেরিয়ে এসে বেশি রিস্ক নিয়ে ফেললাম কি?